রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জীবননগরে মেরিনাকে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টা, সঞ্জয়ের নামে অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

জীবননগরে মেরিনাকে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টা, সঞ্জয়ের নামে অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক সাঁওতাল গৃহবধূকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দত্তনগর কৃষি ফার্মের পাথিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নৈশপ্রহরীদের দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক উপস্থিতির কারণে অল্পের জন্য রক্ষা পান ভিকটিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দত্তনগর কৃষি ফার্মের পাথিলা অংশের সাঁওতাল পল্লীতে দেশীয় মদ তৈরি না করার নির্দেশ দেন ফার্মের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (ডিডি) কামাল হোসেন । কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ পল্লীর বাসিন্দারা মেনে চললেও নির্মল সরদারের  ছেলে "সঞ্জয়" তা অমান্য করে বাংলা মদের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সঞ্জয় মদ বহন করার সময় মেরিনাসহ সেখানকার কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাকে বাধা দেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে এ বিষয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে।

তারপর ভিকটিম মেরিনা সিংয়ের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যাবেলায় সঞ্জয় ও তার সহযোগীসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তার মুখে কাপড় গুঁজে এবং হাত পেছনে বেঁধে মাঠের ভেতর দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাতিলা ফার্মের নদী সংলগ্ন বটগাছের নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বরে জানান মেরিনা সিং।

এসময় ধস্তাধস্তি ও মেরিনার চিৎকারের শব্দ পেয়ে পাতিলা খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী সজীব ও মিজান এগিয়ে যান। তারা হাতে থাকা টর্চলাইটের আলো ফেললে অস্পষ্ট চারজনকে দেখতে পান।

এসময় নৈশপ্রহরীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেরিনাকে রেখে দ্রুত তিন-জন পালিয়ে যায়। পরে মেরিনা ছেঁড়া কাপড় পরা অবস্থায় দৌড়ে এসে নৈশপ্রহরীদের কাছে আশ্রয় নেন এবং নৈশো প্রহরীরা তার স্বামী বিধান খবর দিলে তাকে পরিবারের লোকজন এসে সেখান থেকে বাসায় নিয়ে যান।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে জীবননগর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রথম বার মদ-সহ সঞ্জয় কে ভিডিও করার হাতাহাতি-মারামারির ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ব্যাপারে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ জানান এ ব্যাপারে আমরা অবগত আছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে 

এ ঘটনায় সঞ্জয়ের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার বাড়িতে গেলে তাকে বাসায় পাওয়া যায় না, পরে মুঠোফোনে তাকে কল করে বক্তব্য নিতে চাইলে সরাসরি কোন বক্তব্য দিতে চাননি তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!