প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের আমন্ত্রণে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন ভারতের গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখার সচিব পরাগ জৈন। রোববার একটি ভারতীয় উড়োজাহাজে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেরি ও শৈবল রায় চৌধুরী।
বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সফরটিকে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত মার্চে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়াদিল্লি সফর করেন। ওই সফরে তিনি ভারতের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রমনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের নিরাপত্তা যোগাযোগ আরও সক্রিয় করার বিষয়ে তখন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের গোয়েন্দাপ্রধানের ঢাকায় আগমন এমন এক সময়ে হলো, যখন সোমবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা বিষয় এ বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লির সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দেশের জ্বালানি চাহিদা সামাল দিতে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বিষয়ও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবারের বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত সরকারের আমন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য পৃথক দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণও জানানো হবে।
সব মিলিয়ে ভারতের গোয়েন্দাপ্রধানের আকস্মিক ঢাকা সফর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরের আমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ জোরদারের নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।



