প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুটের চাষে নতুন সম্ভাবনার দেখা পেয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের কয়েকটি কৃষিজমিতে গাছে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। কোনোটি এখনো কাঁচা, আবার কোনোটি পাকতে শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়ায় এ ফলের চাষ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।
স্থানীয়ভাবে প্যাশন ফ্রুটকে অনেকে ‘আনারকলি’ কিংবা ‘ট্যাং ফল’ নামে চেনেন। পার্বত্য অঞ্চলে এ ফলের চাষ আগে থেকেই হলেও জীবননগরের সমতল এলাকায় এটি তুলনামূলক নতুন। সম্প্রতি দুই কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে এ ফলের চাষ শুরু করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা মো. ইউসুফ আলী প্রায় ছয় মাস আগে এক বিঘা জমিতে প্যাশন ফ্রুটের চারা রোপণ করেন। একই সময়ে কৃষক আবুল বাশার ১০ কাঠা জমিতে গড়ে তোলেন ছোট একটি বাগান। অল্প সময়ের মধ্যেই গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরায় উচ্ছ্বসিত তারা।
ইউসুফ আলী জানান, এ পর্যন্ত তার বাগান তৈরিতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো থাকায় এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া গেলে মৌসুম শেষে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে আবুল বাশারের ১০ কাঠা জমিতে রয়েছে প্রায় ৬০টি গাছ। ফলন দেখে তিনিও বেশ আশাবাদী। এরই মধ্যে বাগানের ফল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন পাইকারি ক্রেতারা। প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ইউসুফ আলী জানান, কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে প্রথমবার এ ফলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর প্রতিবেশী আবুল বাশারকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন।
নতুন এ ফলের ফলন দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের কৃষকদের কেউ কেউ বাগানে আসছেন। ফলন ও বাজারদর সন্তোষজনক হলে আগামীতে তারাও প্যাশন ফ্রুট চাষে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ছয় বিঘা জমিতে এ ফলের চাষ হয়েছে। ফলন দেখে কৃষকদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ পরিচর্যা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ফল স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এদিকে নতুন জাতের এ ফলের বাগান পরিদর্শন করেছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। বাগান ঘুরে দেখে এর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
কৃষকদের মতে, প্যাশন ফ্রুট চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং ভালো বাজার নিশ্চিত করা গেলে এটি লাভজনক কৃষিপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে বড় পরিসরে চাষ সম্প্রসারণের আগে প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত চারা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ এবং স্থায়ী বাজারব্যবস্থা। এসব সুবিধা নিশ্চিত হলে জীবননগরের কৃষিতে বিদেশি এ ফল নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।



