প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের হবুর মোড় গ্রামের আতাউর রহমান অল্প পুঁজি নিয়ে হাঁস পালনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। প্রায় সাত বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন হাঁস পালন। সেই ছোট পরিসরের উদ্যোগ এখন বড় খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৮৫০টি হাঁস।
আতাউর রহমানের শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ঋণের টাকাই ছিল তার একমাত্র সম্বল। প্রথম দিকে নদী, খাল, বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ের আশপাশে হাঁস চরিয়ে পালন করতেন তিনি। এতে হাঁসের খাবারের পেছনে খরচ তুলনামূলক কম হতো। ধীরে ধীরে হাঁস পালন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং সংখ্যাও বাড়াতে থাকেন।
বর্তমানে তার খামারের হাঁসগুলো থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিম পাওয়া যায়। ডিম বিক্রি করে দৈনিক প্রায় ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এর মধ্যে হাঁসের খাবারসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হয় আনুমানিক ৪ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টাকা লাভ থাকে। এ হিসাবে মাসে তার নিট আয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
হাঁস পালন থেকে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতাউর রহমানের আর্থিক অবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে তিনি দুই বিঘা জমি কিনেছেন। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করছেন খামারের আয় থেকে।
আতাউর রহমানের তিন ছেলে। বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। মেজো ছেলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর বাবার সঙ্গে খামারের কাজে যুক্ত হয়েছেন। ছোট ছেলে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
আতাউর রহমান বলেন, হাঁস পালনে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিশ্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যত্ন নিয়ে খামার পরিচালনা করতে পারলে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা উদ্যোগ আজ তার পরিবারের স্বচ্ছলতার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমিত পুঁজি থাকলেও পরিকল্পনা, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সফল হওয়া সম্ভব। আতাউর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা তারই বাস্তব উদাহরণ। তার খামার এখন শুধু পরিবারের আয়ের উৎস নয়, আশপাশের অনেক মানুষের কাছেও স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা।



