রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

মোঃ জাহিদুল ইসলাম কাজল

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


​মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।
​মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। রহম আলী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১৫ নভেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে রহম আলীর মেয়ে লিপছিয়া দরজা খোলার শব্দে জেগে উঠে বাবাকে রক্তমাখা গাছি দা হাতে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখে। পরে চৌকির নিচে মা আলেয়া বেগমের গলাকাটা ও রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে সে চিৎকার শুরু করে।

এ ঘটনার পর নিহত আলেয়া বেগমের ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে বাবা রহম আলীকে একমাত্র আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তৎকালীন এসআই মহসিন আলী ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ এবং লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রহম আলী গ্রেপ্তার হলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৪ মার্চ রহম আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


​দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি রহম আলীকে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া মামলায় ব্যবহৃত ও জব্দকৃত আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!