রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বৃষ্টির পানিতে কাপ্তাই হ্রদে ডুবে গেল ঝুলন্ত সেতু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

বৃষ্টির পানিতে কাপ্তাই হ্রদে ডুবে গেল ঝুলন্ত সেতু

ফাইল ছবি

টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাবে রাঙ্গামাটি শহরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। এতে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।

শনিবার দুপুরের দিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের একটি অংশ পানির নিচে চলে যায়। রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলক বিকাশ চাকমা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ বাড়ায় দুপুর ২টার দিকে সেতুটির পাটাতন প্রায় চার ইঞ্চি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেতুর প্রবেশ টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে গেলে সেতুটির অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পর আবার দর্শনার্থীদের জন্য এটি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকে পড়েছে। কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি পৌরসভাসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভা ছাড়াও খেদারমারা, আমতলী ও সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে পানি উঠেছে। তবে ঠিক কতটি গ্রাম বা কতটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

রাঙ্গামাটি জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে জেলায় মোট ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৩৮ মিলিমিটার এবং শুক্রবার ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ অবস্থায় জেলার পাহাড়ি ঢল, নদ-নদী ও হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ও নিম্নাঞ্চলের প্লাবন পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!