প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি পৃথক সংযোগ সেতু সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় এই সেতু দুটি বিকল্প যাতায়াতপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সেতু দুটি দুই লেনবিশিষ্ট। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। একটি সেতু দিয়ে ধউর থেকে আশুলিয়ার দিকে এবং অপরটি দিয়ে আশুলিয়া থেকে ধউরের দিকে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এ পথে চলাচল করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেতু দুটির ব্যবহারের জন্য কোনো শুল্ক দিতে হবে না। ভবিষ্যতেও এ পথ শুল্কমুক্ত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল মহাসড়কের মূল নির্মাণকাজ চলার সময় ধউর, আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলে যান চলাচলে যে চাপ তৈরি হতে পারে, তা কমাতেই পৃথক সংযোগপথ হিসেবে এসব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত চলাচলকারী মানুষের জন্য নতুন পথটি সময় ও ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে সেতুতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না। এর ফলে বড় আকারের অতিরিক্ত উচ্চতার যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল মহাসড়ক প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড এলাকা থেকে আশুলিয়া হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দরসংলগ্ন কাওলা এলাকায় সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত উড়াল সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে এই প্রকল্পের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে বহুস্তরবিশিষ্ট সংযোগস্থল নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য পৃথক পথ এবং মেট্রোরেলের প্রথম লাইনের একটি স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকা ও আশুলিয়ার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা ও রাজধানীর মধ্যে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও গতি বাড়তে পারে। বর্তমানে চালু হওয়া দুটি শুল্কমুক্ত সংযোগ সেতু তাই পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



