রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিবপুরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

শিবপুরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত

ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীর শিবপুরে ছেলের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বাছেদ মিয়া নামের ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও আরেক ছেলে আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল বাছেদ ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার ছেলে শাকিল চৌধুরী। ৩৫ বছর বয়সী শাকিল পেশায় রাজমিস্ত্রির শ্রমিক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাবা ও ছেলে একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের পারিবারিক বিরোধ ছিল না বলেও জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে ভোরে হঠাৎ ওই কক্ষ থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান পরিবারের অন্য সদস্যরা।

চিৎকার শুনে আব্দুল বাছেদের স্ত্রী সখিনা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। কক্ষে গিয়ে তারা দেখতে পান, শাকিল তার বাবাকে পেটে ছুরিকাঘাত করছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন শাকিল তার মা সখিনা বেগম এবং ভাই নুরুন্নবী রাশেদকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।

একপর্যায়ে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল বাছেদকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

সকালে শিবপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল বাছেদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত সখিনা বেগম ও নুরুন্নবী রাশেদের চিকিৎসার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, বাবা-ছেলের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো বিরোধ ছিল না। ফলে কী কারণে শাকিল হঠাৎ তার বাবার ওপর হামলা চালালেন, তা নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক কোনো বিষয়, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরীকে আটক করার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

ভোরের এই ঘটনায় একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন মুহূর্তেই শোক ও আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বাবার মৃত্যু এবং মা ও ভাইয়ের আহত হওয়ার ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। অভিযুক্ত ছেলে দ্রুত আটক হলে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!