প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
পবিত্র হজ পালনের গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকে নাটোরের সিংড়া থেকে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন দুলাল হোসেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এখন যশোরের বেনাপোলে অবস্থান করছেন। তবে প্রয়োজনীয় ভিসা না পাওয়ায় আপাতত থেমে আছে তার স্বপ্নের এই দীর্ঘ পদযাত্রা।
দুলাল হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তার ইচ্ছা ছিল পায়ে হেঁটে পবিত্র কাবা শরিফে পৌঁছে তাওয়াফ করা এবং হজ পালন করা। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই গত ৪ আগস্ট সকালে নিজ এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে তিনি মক্কার উদ্দেশে পায়ে হাঁটা শুরু করেন।
শুরু থেকেই যাত্রাটি ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে একপর্যায়ে তিনি কুষ্টিয়ায় পৌঁছান। সেখানে প্রয়োজনীয় ভিসা পাওয়ার আশায় প্রায় তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট লিটন নামে এক ব্যক্তির কাছে তিনি পাসপোর্ট জমা দেন। ওই ব্যক্তি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, হজের পথে যেসব দেশে প্রবেশ করতে হবে সেসব দেশের প্রয়োজনীয় ভিসা ও কাগজপত্রের ব্যবস্থা করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথাও তাকে জানানো হয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভিসা না পাওয়ায় অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় আর না থেকে আবার পায়ে হেঁটে বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা দেন দুলাল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বেনাপোলে পৌঁছান।
বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করে প্রয়োজনীয় ভিসা ও অনুমতির অপেক্ষা করছেন তিনি। ভিসা হাতে পেলেই বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। এরপর ভারতসহ একাধিক দেশ অতিক্রম করে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
দুলালের এই যাত্রার পেছনে রয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার এবং নিজের স্বপ্ন অনুযায়ী হজ পালনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তার ভাষায়, আল্লাহর ঘরে পৌঁছানোর ইচ্ছাই তাকে এত দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার সাহস জুগিয়েছে। পথের কষ্ট ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে যেতে চান।
তবে সীমান্ত পার হয়ে বিভিন্ন দেশ অতিক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভিসা, প্রবেশের অনুমতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তার। দীর্ঘ এই যাত্রায় কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে চান না তিনি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ইতোমধ্যে নাটোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত পায়ে হেঁটে এসে নিজের দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দিয়েছেন দুলাল। এখন তার চোখ প্রয়োজনীয় ভিসার দিকে। কাগজপত্রের জটিলতা কাটিয়ে অনুমতি মিললেই আবার শুরু করতে চান মক্কামুখী পদযাত্রা।
বেনাপোলে অপেক্ষারত দুলালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে হাতে আসবে প্রয়োজনীয় ভিসা এবং কবে আবার শুরু হবে তার দীর্ঘ পথচলা। পবিত্র কাবা শরিফে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা এই যাত্রার পরবর্তী অধ্যায় এখন নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার ওপর।



