রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গোপালগঞ্জে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ জনের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

গোপালগঞ্জে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ জনের

ছবিঃ সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মুকসুদপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে গুরুতর আহত ১৬ জনকে মুকসুদপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভাঙ্গা মহাসড়ক থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। বাসটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হতাহতদের বিস্তারিত পরিচয় তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে সেতু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসংলগ্ন এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ করে চলাচল না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে বলে মনে করছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!