রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মশারি দিয়ে পুকুরে মাছ ধরতে নেমে ৩ শিশু ফিরল লাশ হয়ে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

মশারি দিয়ে পুকুরে মাছ ধরতে নেমে ৩ শিশু ফিরল লাশ হয়ে

ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই-বোন। সোমবার উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নানির বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে এসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হয় দুই শিশু।

নিহতরা হলো চর বিষ্ণুপুর গ্রামের মমিনুর ইসলামের ছেলে সিয়াম, বয়স আট বছর, এবং খামার গ্রামের দুলালের মেয়ে মোফাসসিরা, বয়স সাত বছর। স্বজনেরা জানিয়েছেন, দুজনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টার দিকে দুই শিশুসহ প্রতিবেশীর আরও এক শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরতে নামে। তারা একটি পুরোনো মশারি ছিঁড়ে তা দিয়ে জালের মতো তৈরি করে মাছ ধরার চেষ্টা করছিল। শিশুদের কাছে বিষয়টি ছিল নিছক খেলা ও আনন্দের। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।

মাছ ধরার সময় কোনো এক পর্যায়ে সিয়াম ও মোফাসসিরা পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী শিশুটি বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে সেখান থেকে বাড়িতে চলে যায় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। পরে দীর্ঘ সময় দুই শিশুকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজ করতে শুরু করেন।

দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন পুকুরের পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে বিষয়টি পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পানিতে তল্লাশি শুরু করেন। প্রথমে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পুকুরের পানির নিচে খোঁজ চালিয়ে মোফাসসিরার মরদেহও উদ্ধার করেন তারা।

দুই শিশুর মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক। নানির বাড়িতে আনন্দের সময় কাটাতে আসা দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায়ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

নিহত সিয়াম ও মোফাসসিরার জেঠা আবু বক্কর জানান, সকালে তারা আরও এক শিশুর সঙ্গে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই তারা পানিতে ডুবে যায়। সঙ্গে থাকা শিশুটি বাড়িতে চলে যাওয়ার পরও বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের কাউকে জানায়নি। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয়রা একজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দিলে ঘটনাটি সবার নজরে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্পণ কুমার দাস দুর্ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, শিশুদের পুকুর, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ের কাছে একা বা বড়দের নজরদারি ছাড়া যেতে দেওয়া হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলাশয়ে পানির গভীরতা ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় আবারও শিশুদের পানির কাছাকাছি চলাফেরার সময় অভিভাবকদের বাড়তি নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে। সামান্য অসতর্কতাও যে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে, নাগেশ্বরীর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি তারই করুণ উদাহরণ।

দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা তাদের হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!