রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজেদের চাহিদা মিটলে বাংলাদেশকে ডিজেল দেবে ভারত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

নিজেদের চাহিদা মিটলে বাংলাদেশকে ডিজেল দেবে ভারত

ফাইল ছবি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই অনুরোধ ইতোমধ্যে নয়াদিল্লি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারত।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ এসেছে, তা সরকার খতিয়ে দেখছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের ডিজেলের প্রাপ্যতা এবং পরিশোধন সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, শুধু বাংলাদেশ নয়—শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। সেসব বিষয়ও ভারত সরকার যাচাই করে দেখছে।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তবে ঠিক কত পরিমাণ ডিজেল চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কিছু জানানো হয়নি। বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনারও নিশ্চিত করেন যে, জ্বালানি সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে চিঠি দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের সরকার আলোচনা করছে।

একসময় বাংলাদেশের আমদানিকৃত ডিজেলের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসত। বিশেষ করে কুয়েত ছিল প্রধান সরবরাহকারী দেশ। তবে গত দুই দশকে আমদানির উৎসে বড় পরিবর্তন এসেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আমদানি করা ডিজেলের প্রায় ৯১ শতাংশই এসেছিল কুয়েত থেকে। তখন ভারতের অংশ ছিল মাত্র ৯ শতাংশ।

পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর দ্রুত ডিজেল সরবরাহের শীর্ষে উঠে আসে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের তালিকায় যুক্ত হয়।

বর্তমানে আমদানির উৎস আরও বহুমুখী হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ প্রায় ২৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে এবং প্রায় ২৪ শতাংশ এসেছে মালয়েশিয়া থেকে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!