রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হচ্ছে তুরস্ক ও কাতার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হচ্ছে তুরস্ক ও কাতার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক পথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর নতুন করে জোট গঠনের আলোচনা সামনে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। সেখানে ভবিষ্যতে তুরস্ক ও কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় ইসলামাবাদ ও রিয়াদ তাদের প্রতিরক্ষা সমন্বয় নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই বিদ্যমান চুক্তিকে আরও বিস্তৃত আকার দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, এই নিরাপত্তা কাঠামোর চূড়ান্ত রূপ এখনও নির্ধারণাধীন। তবে ভবিষ্যতে এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হতে পারে, যেখানে একাধিক মুসলিম প্রধান দেশ যুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, কাতার ও তুরস্ক যদি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়, তাহলে সেটি হবে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। তার মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সমমনা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্য, তেল পরিবহন এবং কৌশলগত অবকাঠামো ঘিরে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা জোট শক্তিশালী করার দিকে ঝুঁকছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতে বলা হয়, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তি দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়।পরবর্তীতে ইরান-সম্পর্কিত সংঘাত এবং পাল্টা হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের সামরিক সমন্বয় আরও জোরদার করে। যৌথ মহড়াসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৃদ্ধি পায় বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে সফর করে যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। এই উদ্যোগকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, যদি তুরস্ক ও কাতার এই সম্ভাব্য জোটে যুক্ত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!