রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক অস্থিরতার পর অবশেষে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি শান্তিচুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা।

শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আশা, খুব শিগগিরই এই সমঝোতা আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।

শেহবাজ শরিফ জানান, আগামী এক দিনের মধ্যেই দূরবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। এরপর পরবর্তী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চুক্তির বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, যদি এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা কমে গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। সামরিক পদক্ষেপ, পাল্টা আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। এর প্রভাব পড়ে জ্বালানি বাজারেও। বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিক ওঠানামা করতে শুরু করে, যা বহু দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি দুই দেশের মধ্যে সত্যিই একটি কার্যকর শান্তি সমঝোতা সম্পন্ন হয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!