প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি শিগগিরই সম্পন্ন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতা কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় সচল হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে ইরানের বক্তব্যে দেখা গেছে ভিন্ন সুর। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে কোনো নতুন সমঝোতা স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। ফলে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
এ পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা বা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানায়নি। এর ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক বার্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই জলপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ কার্যকারিতা শুধু দুই দেশের রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখবে। তাই সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা কঠিন।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর নতুন আশার আলো তৈরি হলেও ইরানের নীরবতা এবং বিপরীত অবস্থানের কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এখন দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।



