প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোমবার সকালে নিয়মিত একটি পরীক্ষামূলক অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় বিমানবাহিনীর একটি ভারী বোমাবর্ষণ সক্ষম যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উড্ডয়নের কিছু সময়ের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায়। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিমানটি একটি নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল। এতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কারিগরি সহায়তায় যুক্ত বেসামরিক কর্মীরাও ছিলেন।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই দুর্ঘটনাস্থলের আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ দেখা যায়, যা দূর থেকেও স্পষ্টভাবে নজরে আসে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে আটজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের স্বজনদের অবহিত করার পর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
কী কারণে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যান্ত্রিক গোলযোগ কিংবা অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না, তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোমাবর্ষণ সক্ষম আকাশযান হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরে সামরিক কৌশলগত অভিযানে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারী অস্ত্র বহন এবং দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সক্ষমতার কারণে বিমানটি দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এমন একটি দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা কঠিন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



