রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টানাপোড়েনের মধ্যেও বৈঠকের পথে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

টানাপোড়েনের মধ্যেও বৈঠকের পথে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের আড়ালে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মুখোমুখি হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতার এই সরাসরি সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে চাপের মুখে থাকায় এই সাক্ষাৎকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শীর্ষ নেতাদের সমাবেশে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মোদি ও ট্রাম্প করমর্দন করেন এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ধারণা করা হচ্ছে, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

গত এক বছরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বেশ কয়েকটি কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কের উষ্ণতায় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য নয়াদিল্লির সঙ্গে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করে তোলে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ওমান উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে সামরিক অভিযানে ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগও বৃদ্ধি পায়।

তবে সব ধরনের মতবিরোধ সত্ত্বেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে। চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং সম্ভাব্য নতুন অর্থনৈতিক সমঝোতা নিয়ে দুই দেশ ইতোমধ্যে অগ্রগতি করেছে। কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি করতে পারে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আসন্ন পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

দীর্ঘ সময় পর দুই নেতার এই সাক্ষাৎ শুধু ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বৈঠক ভবিষ্যৎ সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!