প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অগ্রসরমান সমঝোতা ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এই পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আশা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি সেই পরিকল্পনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে, তা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। এর আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযান সীমিত বা বন্ধ রাখার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশ মনে করছে, বর্তমান উদ্যোগে দেশটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় এসব ইস্যু কীভাবে সমাধান করা হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মনে করছে, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা অধিক কার্যকর হতে পারে। এ কারণে তারা একটি বিস্তৃত চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে এই অবস্থান ইসরায়েলের সব মহলে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলছে, তবুও বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেছেন যে, সব বিষয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে একমত হওয়া সম্ভব নয় এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা নেতানিয়াহুর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জনমতের একটি অংশও এখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল ও কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেখতে চায়।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার সম্ভাবনা শুধু আঞ্চলিক কূটনীতিতেই নয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোর আলোচনা ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।



