রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার ১৪ দফা চুক্তিতে?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

কী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার ১৪ দফা চুক্তিতে?

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘ উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক ১৪ দফা শান্তি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সমঝোতাটি কার্যকর হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথে এগোবে দুই দেশ।

সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো চলমান সংঘাতের অবসান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ পুনরায় সচল করার বিষয়ও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ দফাসমূহ

১. সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ
সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট মিত্ররা অবিলম্বে সব যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রগুলোও এর আওতায় থাকবে।

২. সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান
দুই দেশ একে অপরের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে সম্মান করার অঙ্গীকার করেছে। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৩. ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনার লক্ষ্য
প্রাথমিক সমঝোতার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি সম্পাদনের জন্য আলোচনা চালানো হবে। প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

৪. অবরোধ শিথিলকরণ
যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এর ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৫. হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৬. ইরানের পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তা
ইরানের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত হতে পারে।

৭. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা
ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

৮. পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার
ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অধীনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

৯. বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা
চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের বিদ্যমান কর্মসূচির সীমার মধ্যে থাকবে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত পদক্ষেপ নেবে না।

১০. নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা
আলোচনা চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত থাকার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

১১. জব্দ অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া
বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কিছু অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১২. বাস্তবায়ন তদারকি ব্যবস্থা
সমঝোতার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ তদারকি কাঠামো গঠন করা হবে।

১৩. নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক
চুক্তির অগ্রগতি মূল্যায়নে দুই পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতির উদ্যোগ
চূড়ান্ত সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে আগামী দুই মাসের আলোচনা এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!