প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত কূটনৈতিক সংলাপ ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের মনোরম লুসার্ন হ্রদসংলগ্ন এলাকায় এই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে পারমাণবিক কার্যক্রম, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার খবরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনাটি পুরোপুরি বাতিল হয়নি। বরং পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে এটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে আবারও আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা এখনো সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং উভয় পক্ষ এখনো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রাখতে চায়।
সুইস কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, বৈঠক আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত স্থানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। আলোচনার নতুন তারিখ নির্ধারিত হলে দ্রুত আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার আওতায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা ছিল। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির নানা বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় সেই সময়সীমা বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল বাস্তবতায় এ ধরনের আলোচনা অনেক সময় নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয় না। নানা কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও কারিগরি কারণে সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। তবে আলোচনার দরজা খোলা থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অন্যদিকে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও অবিশ্বাস কাটিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ও কৌশলের সঙ্গে এগোতে হবে। কারণ এই সংলাপ শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
নতুন কোনো সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শিগগিরই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে।



