প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞামূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় একাধিক মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। বেইজিং ঘোষণা করেছে, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং বিরল খনিজসম্পদ সংশ্লিষ্ট দশটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য সরবরাহের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে।
চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন উপকরণ রপ্তানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব রপ্তানি কার্যক্রম আগে থেকে চলমান ছিল, সেগুলোকেও অবিলম্বে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা দেখা গেলেও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো বহাল রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা এবং কৌশলগত খনিজসম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
চীনের বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রতিষ্ঠান নয়, বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি চীন থেকে সংগৃহীত নিষিদ্ধ পণ্য এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করে, তবে তারাও একই ধরনের বিধিনিষেধের আওতায় আসতে পারে। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে চীনের অর্থ বিষয়ক কর্তৃপক্ষ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট কয়েক ডজন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান চীনের সরকারি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তাইওয়ান প্রশ্ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। একদিকে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে, অন্যদিকে বেইজিং এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।
বিশ্ব অর্থনীতির দুই বৃহৎ শক্তির এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি বাজার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতি ও কূটনীতি বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বিরোধ আরও গভীর হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ববাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।



