রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ইতিবাচক পথে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ইতিবাচক পথে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারমাণবিক ইস্যুকেন্দ্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন করে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে এবং সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো উভয় পক্ষের জন্য ফলপ্রসূ হয়েছে। একই সময়ে ইরানও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

বুধবার নর্থ ডাকোটায় সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে দুই পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেছে এবং আলোচনার পরিবেশ ছিল গঠনমূলক। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে, তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা হলেও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিবাচক রয়েছে। তার মতে, পারস্পরিক সংলাপ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি কার্যকর সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনায় বিভিন্ন কারিগরি ও নীতিগত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরাসরি বৈঠক না হলেও এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতের বৃহত্তর সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ, সার্বভৌমত্ব কিংবা দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি হলে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি আরও বলেন, ইরান নিজের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিচ্ছে। ফলে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তা সত্ত্বেও সংলাপ অব্যাহত থাকাকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

তাদের মতে, যদি আলোচনার এই ধারা বজায় থাকে এবং উভয় পক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!