প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ভারতীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। এরপর তাদের সালেম জেলার আট্টুর মহকুমার একটি নির্ধারিত আবাসিক কেন্দ্রে রাখা হয়। পরিচয় যাচাই, নথিপত্র পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে গত ৩ জুলাই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশবাহিনীর গাড়িতে করে আটক ব্যক্তিদের তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের একটি দূরপাল্লার ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। যাত্রাপথজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, আটক ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর তাদের সরাসরি সীমান্তবর্তী এলাকায় নেওয়া হবে। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এরপর প্রচলিত যাচাই-বাছাই, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি বিধি অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তাদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশ রোধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো এবং পরিচয় যাচাই কার্যক্রমে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য বিশেষ আবাসিক কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপ সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সমন্বয় এবং প্রচলিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ ধরনের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



