প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহলকে ঘিরে আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক। স্মৃতিসৌধটির নিচে কোনো প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে জরিপ পরিচালনা করা হবে না কেন—এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা জানতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মামলার আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাজমহল শুধুমাত্র একটি সমাধিসৌধ নয়; বরং এটি বহু আগে নির্মিত একটি প্রাচীন হিন্দু উপাসনালয়, যা পরবর্তীকালে মোগল শাসনামলে অন্য রূপ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, এই দাবির পক্ষে একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য ও নথি রয়েছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের জন্য আদালতের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গ জরিপ পরিচালনার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
শুনানিকালে আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, তাজমহলের ভেতরে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হলে প্রকৃত ইতিহাস সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ধর্মীয় উপাসনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এর আগে নিম্ন আদালতে একই ধরনের আবেদন করা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন না হওয়ায় তা খারিজ হয়ে যায়। পরে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হলে নতুন করে বিষয়টি বিচারাধীন হয়। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বড় একটি অংশের বক্তব্য, তাজমহল সপ্তদশ শতকে সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ইতিহাসই স্বীকৃত এবং বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্য। স্মৃতিসৌধটি আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
তবে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান আদালতের মাধ্যমে যাচাই করা হলে স্থাপনাটির প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে। সেই উদ্দেশ্যেই তারা আদালতের মাধ্যমে স্বাধীন জরিপের আবেদন জানিয়েছেন।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাকে ঘিরে একাধিক মামলা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থাপনার আদি পরিচয় নিয়ে আদালতে নানা দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। তাজমহলকে কেন্দ্র করে নতুন এই মামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপর নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি। একই সঙ্গে এই মামলার রায় ভারতের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্যবিষয়ক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।



