প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষে প্রায় ১.১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল সামরিক বাজেট বিল সামান্য ব্যবধানে অনুমোদিত হয়েছে। দেশটির ২০২৭ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের অধীনে এই অর্থ বরাদ্দ পাসের প্রস্তাব আনা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ ইসরায়েলের সাথে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রস্তাব থাকায় বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারি দলের একাধিক আইনপ্রণেতা এই বিলেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বিলটি ২১৬–২১২ ভোটের লড়াইয়ে অত্যন্ত কাছাকাছি ব্যবধানে জয়লাভ করে। আইনসভার অধিকাংশ সদস্য স্ব-স্ব দলের সিদ্ধান্ত মেনে ভোট প্রদান করলেও ছয়জন বিরোধী আইনপ্রণেতা বিলের সমর্থনে এবং সাতজন সরকারি দলের সদস্য বিলের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। সরকারি দলের একজন প্রভাবশালী সদস্য ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত থমাস ম্যাসি ভোটগ্রহণ শেষে নিজের মতামত ব্যক্ত করে জানান, বিলেই অন্তর্ভুক্ত সুনির্দিষ্ট একটি ধারার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সার্বভৌমত্ব মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর মাধ্যমে তাদের দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিদেশি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে অতিরিক্ত মাত্রায় একীভূত হয়ে যাবে। উচ্চকক্ষে গিয়ে এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের এই সামরিক বাজেট মূলত রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ানোর সামগ্রিক নীতিরই অংশ। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের ৯০০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বরাদ্দ বাড়িয়ে একধাক্কায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা পেশ করে।
রাষ্ট্রপ্রধানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলা চলমান যুদ্ধপরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করতে এই বিশাল পরিমাণ অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে বিরোধীদের মতে, এত বড় অঙ্কের বাজেট বৃদ্ধি এবং অন্য দেশের সাথে সামরিক সহযোগিতা প্রসারের সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আইনসভায় আরও বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। এছাড়া জর্ডানে সাম্প্রতিক হামলায় নিখোঁজ থাকা সামরিক সদস্যদের নিয়ে প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের উদ্বেগের বিষয়টিও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।



