প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র বিতর্ককে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পঞ্চায়েত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশ পাল গঙওয়ারকে, যিনি এর আগে মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সরকারি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে চলমান সংকট নিরসনের চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আন্দোলনকারীরা রাজধানীর যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সম্প্রতি সমন্বিত চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত জুন মাসের শুরু থেকেই শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনে নামেন। পরবর্তীতে পরিবেশ ও জলবায়ু আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনাম ওয়াংচুকও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন শুরু করেন, যা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, শুধু প্রশাসনিক বদলি নয়, বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে শিক্ষা সচিবের বদলির পর সোনাম ওয়াংচুক তার অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই প্রশাসনিক পরিবর্তন সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি উদ্যোগ হলেও, প্রশ্নপত্র বিতর্কের পূর্ণাঙ্গ সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার না হলে আন্দোলনের উত্তেজনা সহজে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।



