প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন দেশটির রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাভনীত সিং বিট্টু। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছরের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর পদত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, সম্প্রতি তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পাঞ্জাবের নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন। সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দলীয় অবস্থান আরও শক্তিশালী করার দায়িত্বেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাভনীত সিং বিট্টু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব পালন করে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। বিশেষ করে নিজের রাজ্য পাঞ্জাবের মানুষের জন্য কাজ করতে পারাকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, জনকল্যাণ, উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন। জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঞ্জাবে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল ইতোমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাভনীত সিং বিট্টুর পদত্যাগ নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে। নির্বাচনী মাঠে পূর্ণ সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাভনীত সিং বিট্টুর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘদিনের। তিনি অতীতে অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি বর্তমান দলে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যদিও সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি, পরবর্তীতে সংসদের উচ্চকক্ষে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সুযোগ পান।
এদিকে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তাঁর পদত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে নির্বাচনমুখী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবুও রাজনৈতিক মহলে এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আরও বিস্তৃত কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



