রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে বলে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হামলার দাবির পর পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তাদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর জিজান এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রকাশ করেনি। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিছু সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়।

এর আগে ইয়েমেনে হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানের পর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল হুথি গোষ্ঠী। তারা অভিযোগ করে, ইয়েমেনে ধারাবাহিক হামলার জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়েও তারা কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালার মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!