প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং অব্যাহত আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সম্মানজনক প্রবেশিকা পরীক্ষা 'ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট' বা নিট-এর প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছেন তিনি। সম্প্রতি সরকারের নিকট নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্কিত এই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এর পাশাপাশি বিরোধীদের জোরালো রাজনৈতিক দাবির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। পরীক্ষার সার্বিক স্বচ্ছতা এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় পুরো দেশজুড়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনের গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ধাক্কা খায়। লাখ লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীর মেধা ও পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর ওপরই এসে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জনরোষ প্রশমিত করতেই অবশেষে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতে চলমান সংকট হয়তো পুরোপুরি কাটবে না, তবে প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের সম্মিলিত আন্দোলনের এটি একটি বড় জয়। সরকার এখন প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



