প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, তাদের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হলেও আন্দোলনের ইতি টানার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। সংগঠনটির দাবি, আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দেশের স্বার্থ ও স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন। এরপরই সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করে, আন্দোলনের প্রথম বড় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা এটিকে জনগণের বিজয় বলেও উল্লেখ করে।
তবে সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে আন্দোলনের উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। তারা একটি হালনাগাদ দাবিপত্র প্রকাশ করে জানায়, চার দফা দাবির মধ্যে একটি বাস্তবায়িত হলেও বাকি তিনটি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
সিজেপির দাবি অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থী বা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া আন্দোলন দমনে অভিযানে অংশ নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনী ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, চলমান অধিবেশনেই এ বিষয়ে নতুন আইন উত্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অসাধু কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সরকারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলেও আন্দোলনকারীদের বাকি দাবিগুলো নিয়ে সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরাও জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
বর্তমানে দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।



