রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চায় বিজেপি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চায় বিজেপি

ফাইল ছবি

ভারতের পাঞ্জাবে বিভিন্ন নিয়োগ ও শিক্ষাসংক্রান্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শিক্ষানীতি ও প্রশ্নপত্র বিতর্কে যেসব দল একে অপরের কড়া সমালোচক, পাঞ্জাবে সেই দলগুলোই এবার একই দাবিতে একমত হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও রাজ্য সরকার কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেনি। এর ফলে বহু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দাবি করছে, ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পাঞ্জাবের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় পর্যায়ের প্রশ্নপত্র বিতর্ক থেকে জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা পাঞ্জাবে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, প্রকৃত তথ্যের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই অভিযোগগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।

রবিবার দলীয় এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তোলেন, যদি অন্য ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্নে পদত্যাগ দাবি করা হয়, তবে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে না কেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সরকারের উচিত দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া এবং দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করা।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে পাঞ্জাব কংগ্রেসও। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, একের পর এক পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো সুষ্ঠু জবাবদিহি থেকে বঞ্চিত। তাদের ভাষ্য, হাজারো শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশ নিলেও অনিয়মের অভিযোগে সেই পরিশ্রমের মূল্য ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায় নির্ধারণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

তবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তার সরকারের আমলে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। দুটি পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ পাওয়া গেলেও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নতির স্বার্থে যদি তার পদত্যাগ প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি প্রস্তুত। তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে প্রশ্নপত্র বিতর্ককে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো যেখানে জবাবদিহি ও পদত্যাগের দাবিতে অনড়, সেখানে ক্ষমতাসীন দল অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। ফলে বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি এখন সবার নজরে রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!