প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার মুহূর্তে পাইলট জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
সামরিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে সান দিয়েগোর একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণের প্রস্তুতিকালে যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ে। মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘন ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা ঢেকে যায়। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত আগুন নেভানো হয়। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুনও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, ফলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটি ছিল এক আসনবিশিষ্ট অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যা রাডারের নজর এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার জন্য পরিচিত। এই ধরনের বিমান স্বল্প জায়গা থেকেও উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী কারণে অবতরণের ঠিক আগে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, তা জানতে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে বিমানের কারিগরি অবস্থা, উড্ডয়নের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমান বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক উড়োজাহাজগুলোর একটি। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। শুধু মার্কিন বাহিনী নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ এই মডেলের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে থাকে। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা যুদ্ধবিমানটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।



