প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা নির্দিষ্ট কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়, বরং ‘শরণার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ধর্মীয় নির্যাতন বা জীবন রক্ষার প্রয়োজনে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের জন্য আলাদা আইনি ব্যবস্থা রয়েছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গে একটি জনগণনা-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে এসেছেন, তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। তার ভাষ্য, নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রচলিত আইনে তাদের জন্য পৃথক বিধান রয়েছে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তারা শরণার্থীর স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারী।
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়ন বা জীবন রক্ষার তাগিদে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং আইন অনুযায়ী শরণার্থীর আওতায় পড়েন না, তাদের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শনাক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বৈধ শরণার্থী এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সময় কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে ভুলবশত একজন ভারতীয় নাগরিক প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছিলেন। পরে তার সমস্যার সমাধান করা হলেও ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শরণার্থী নীতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকত্ব ইস্যুতে তার মন্তব্য বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।



