রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ে ছাই শত শত বাড়িঘর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ে ছাই শত শত বাড়িঘর

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আগুনের তীব্রতায় হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে অন্তত ৬০০টি বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর স্পোকেন এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। কয়েক বর্গমাইলজুড়ে বনাঞ্চল, তৃণভূমি ও আবাসিক এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে দমকল বাহিনী, উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় স্পোকেন এলাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের রোগীদেরও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগুনের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অসংখ্য বাড়ি। অনেক স্থানে শুধু ভবনের চিমনি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন এলাকাজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া ও তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুধু ওয়াশিংটন নয়, পার্শ্ববর্তী আইডাহো ও ওরেগনের বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে আগুন নেভাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও আকাশপথে পানি নিক্ষেপের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকাগুলোর বহু বসতবাড়ি ও খামার এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের ধারণা, বজ্রপাত থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এ অবস্থায় কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বায়ুদূষণ, দাবানলের ঝুঁকি এবং তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের মতে, জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!