প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চীনে নির্মিত ২৫০টি আধুনিক কামান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সীমান্তের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধাপে ধাপে এসব কামান স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী দীর্ঘপাল্লার গোলাবর্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অন্যতম বড় কামান শক্তিবৃদ্ধি হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের সামরিক উত্তেজনার পর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এই মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তৈরি এই কামান দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়। সাঁজোয়া যানভিত্তিক এই ব্যবস্থা দুর্গম এলাকাতেও দ্রুত চলাচল করতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকায় এটি প্রতিপক্ষের পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই কামান থেকে নিক্ষেপ করা সাধারণ গোলা কয়েক দশক কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করলে এর কার্যকর পাল্লা আরও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি এতে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ ও গোলাবর্ষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকায় অল্প সময়ে একাধিক গোলা নিক্ষেপ করা সম্ভব।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলের দাবি, ২৫০টি কামান একাধিক কামান রেজিমেন্টকে সজ্জিত করার জন্য যথেষ্ট। এর ফলে পাকিস্তানের প্রচলিত সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সীমান্ত অঞ্চলে তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন চীন ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ, সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে চীনের সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের প্রশংসা করে। তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।



