প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন কিংবা পরিচালনার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বা অন্য বক্তাদের দেওয়া বক্তব্যকেও ভারত সরকার সমর্থন করে না বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে হয়েছিল এবং সেখানে ভারত সরকারের কোনো ধরনের ভূমিকা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান বৈধ সরকারের বিষয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো একমত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভারত সরকার এসব বক্তব্যকে নিজেদের সরকারি অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভারতের সরকারি অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ব্যাখ্যাকে বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ভারত এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে তারা সরকারি নীতি এবং ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।



