প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নির্ধারিত সব শর্ত মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল আঞ্চলিক কোনো আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতা এবং ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টিও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র সারদার মোহেবি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য ইরানের নির্ধারিত কিছু সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলেই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নয়; এটি দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সব শর্ত সম্পূর্ণভাবে মেনে নিতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের বক্তব্য, ওমানের সঙ্গে আলোচনা চললেও প্রণালিটি খোলার সিদ্ধান্ত আলাদা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে প্রণালিটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে তাই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ চলাচল নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয় কি না এবং এর ভিত্তিতে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় কি না, সেটিই নজরে রয়েছে।



