রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৮৫ বছর পর আবার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি-জাপান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

৮৫ বছর পর আবার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি-জাপান

ছবিঃ সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকা জার্মানি ও জাপান এবার নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে দুই দেশই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে তারা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও জাপান একই জোটের অংশ ছিল। যুদ্ধের পর অবশ্য দুই দেশই সামরিক ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয়। জাপানের সংবিধানে যুদ্ধ পরিত্যাগের নীতি সংরক্ষিত রয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীও মূলত আত্মরক্ষামূলক বাহিনী হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে জার্মানিও দীর্ঘদিন প্রতিরক্ষার তুলনায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সেই নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে বদলে যায়। একই সময়ে পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা জাপানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জার্মানি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়ন এবং অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। জাপানও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ ছিল, সেগুলোও ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হচ্ছে। সামরিক প্রযুক্তি, চালকবিহীন উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার, অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই নীতিকে ঘিরে দুই দেশেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে জাপানে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় জার্মানি ও জাপান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ালেও এর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!