প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি করা একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস ওই পরিকল্পনায় সম্মতি জানালেও ইসরায়েল তা গ্রহণ করছে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। এর ফলে গাজা যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্য আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু জানান, জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাস যে ১৫ দফা প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল, সেটি ইসরায়েলের কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে তিনি ঘোষণা করেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির সেনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি দেখা দিলে তা প্রতিহত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রস্তাবটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের সরকারের কট্টর ডানপন্থি অংশের চাপের মধ্যেই পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করলেন তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনাটিকে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধে যাওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, প্রস্তাবটির কিছু বিষয় ইসরায়েল বিবেচনা করতে পারে। তবে যেসব বিষয় দেশটির নিরাপত্তা ও স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো মেনে নেওয়া হবে না। এসব ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন, আবার কোথাও পিছিয়েও আছেন।
গাজা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়েও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তার সরকারের কট্টর ডানপন্থি নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান এবং যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পক্ষে কথা বলে আসছেন। ফলে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সরকারের ভেতরের চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা—দুই দিকই নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।



