রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার, সংসদে আলোচনায় রাজি মোদি সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

ছাত্র আন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার, সংসদে আলোচনায় রাজি মোদি সরকার

সংগৃহীত

ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে দেশটির সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে আলোচনার সময় বিরোধীদের সংসদের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কিরেন রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে সরকার বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংসদে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। তবে তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী সদস্যদের শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা শুনতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

সরকারের এই অবস্থান এমন সময়ে এসেছে, যখন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দাবি করে আসছে। ২০ জুলাই দিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সংসদের ভেতরেও উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য দাবি করেন। গত সপ্তাহেও রাজ্যসভায় বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও জবাব দাবি করেন। এর ফলে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অধিবেশন মুলতবি করার পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। দিল্লির ঘটনায় কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং গুলির ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ২৯ জুলাই লোকসভায় তিনি শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য ঘিরে সরকার ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়।

এর আগে সরকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়েও সংসদে আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছিল। তবে বিরোধীরা আলোচনার পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যের দাবি জানিয়ে আসছে।

কিরেন রিজিজু বলেন, সংসদে আলোচনা হলে সরকারের বক্তব্যও শোনার সুযোগ দিতে হবে। বিরোধীরা যেন স্লোগান বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বক্তব্যে বাধা না দেন, সে আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে এ বিষয়ে বক্তব্য দিলে পুলিশি অভিযান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় সম্মতির ঘোষণা সংসদীয় অচলাবস্থা কাটানোর একটি সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিরোধীরা কোন ধরনের জবাব চান এবং আলোচনায় সরকার কতটা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!