প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের রাজধানী আইজলে সরকারি চাকরির নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার মিজোরাম পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভের সময় অংশগ্রহণকারীরা কমিশনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর ধস্তাধস্তি হয়। তবে পুরো কর্মসূচি বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়নি এবং অধিকাংশ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি হলো নিয়োগ কমিশনের প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা বিশেষভাবে এককালীন নিবন্ধন ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, সব ধরনের চাকরির জন্য একটি অভিন্ন নিবন্ধন ব্যবস্থার পরিবর্তে পদ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আবেদন করার সুযোগ রাখা উচিত। এতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করছেন তারা।
নথিপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। যেসব প্রার্থী এককালীন নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণভাবে জমা দিতে না পারায় আবেদন বাতিলের মুখে পড়েছেন, তাদের অন্তত একবার সরাসরি কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নথি যাচাইয়ের সময় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের বিষয়টি মানবিকভাবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া চাকরিপ্রার্থীদের জন্য স্বচ্ছ, নির্ভুল ও সহজবোধ্য হওয়া প্রয়োজন। আবেদন থেকে শুরু করে পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং নথি যাচাই—প্রতিটি ধাপেই জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা না হলে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। তাই নিয়োগ কমিশনের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



