প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান আন্দ্রাস বাকারাকে নির্বাচিত করেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে ক্ষমতাসীন তিসা পার্টির সমর্থনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে প্রধান বিরোধী দল ফিদেস পার্টির সংসদ সদস্যরা ভোটগ্রহণে অংশ নেননি। বাকারার এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাঙ্গেরির রাজনৈতিক পরিবর্তনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও বাকারার নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক নির্বাচনে পেতের মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টির জয় ভিক্টর অরবানের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শপথ নেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে বাকা আগের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অরবানের শাসনামলে রাষ্ট্রের ওপর একটি দলের প্রভাব অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য যথাযথভাবে কার্যকর ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রতিশোধের রাজনীতিতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, নতুন হাঙ্গেরি ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা ও আত্মসংযমের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শুধু নিজের সমর্থকদের নয়, ভিন্নমতাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে ফিদেস পার্টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। দলটির অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট তামাশ শুইয়কের মেয়াদ শেষ করার ক্ষেত্রে তিসা সরকার ইচ্ছামতো ও বেআইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগও তুলেছে তারা। তবে তিসা পার্টি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
নতুন সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দ্রাস বাকা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সংশোধিত সাংবিধানিক ব্যবস্থায় তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারে। এদিকে নতুন সরকার অরবান আমলের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।



