রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংক্রমণের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে ইবোলা : ডব্লিউএইচও

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

সংক্রমণের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে ইবোলা : ডব্লিউএইচও

সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুন্ডিবুগিও ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ১২৪ জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং ৮২৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হলেও তার আগেই ভাইরাসটির বিস্তার শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম দিকে রোগীদের অনেককে ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের মতো অন্য রোগ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। এতে প্রকৃত সংক্রমণ চিহ্নিত করতে সময় লেগেছে এবং ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

বর্তমানে ইবোলা আক্রান্ত এলাকা কয়েকটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৪৬টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি এলাকায় সাম্প্রতিক ২১ দিনের মধ্যে নতুন রোগী পাওয়া গেছে। সংক্রমণ শনাক্ত ও রোগীদের চিকিৎসার জন্য নজরদারি, নমুনা পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতা। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা মোট আক্রান্তদের একটি সীমিত অংশের কাছেই পৌঁছাতে পারছেন।

এই ভাইরাসটি বুন্ডিবুগিও ধরনের, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তবে দ্রুত শনাক্তকরণ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সহায়ক চিকিৎসা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। সংস্থাটি আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, রোগীদের পৃথক রাখা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীর থেকে বের হওয়া সংক্রমিত তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রোগটি গুরুতর পর্যায়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সংক্রমণের গতি কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!