প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহারের পক্ষে মত তৈরি করতে ওয়াশিংটনে একটি বড় লবিং প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়েছিল ইসরায়েলভিত্তিক একটি কট্টরপন্থী গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। লবিংয়ের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের কাছে জাতিসংঘ থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মিসগাভ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড জায়নিস্ট স্ট্র্যাটেজি নামের প্রতিষ্ঠানটি এ কার্যক্রমের জন্য মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্সকে নিয়োগ দেয়। এ বিষয়ে তৈরি করা একটি প্রতিবেদনের সহলেখক ছিলেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান এবং মিসগাভের নির্বাহী পরিচালক আশের ফ্রেডম্যান।
‘ফ্রম ইউএন ব্যুরোক্রেসি টু আমেরিকান গ্লোবাল লিডারশিপ’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এতে দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর নয়। তাই সংস্থাটির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, লবিং প্রতিষ্ঠাটির দায়িত্ব ছিল প্রতিবেদনটি কংগ্রেসের বিভিন্ন সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি এর লেখকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বৈঠকের ব্যবস্থাও করার কথা ছিল। মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় রাখা হয়েছিল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিসগাভ এ কাজের জন্য এক মাসের একটি চুক্তি করেছিল এবং এর বিনিময়ে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা ছিল। পরে ওয়াশিংটনে মিসগাভের প্রতিনিধিদের জন্য কয়েক দিনের সফরের পরিকল্পনাও করা হয়। ওই সময়ে আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা, নীতিবিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার কথা ছিল।
জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রতিবেদনে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো এতে তুলে ধরা হয়। মিসগাভের দাবি, জাতিসংঘের কিছু প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে।
এদিকে এই লবিংয়ের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেসকো ও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে সরে যাওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে মার্কিন অর্থায়ন নিয়েও পর্যালোচনা চলছে।
মিসগাভ অবশ্য এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরতে সীমিত পরিসরে এ উদ্যোগ নিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি পক্ষের হয়ে পরিচালিত রাজনৈতিক ও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যে আইনের আওতায় এ ধরনের লবিংয়ের তথ্য প্রকাশ করতে হয়, সেই আইনের অধীনেই চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।



