প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দাবি করা হচ্ছে, জাপানের এক তরুণ বিপুল অর্থ ব্যয় করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিজেকে কুকুরে রূপান্তর করেছেন। ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হলেও অনুসন্ধানে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
ভাইরাল পোস্টগুলোতে ওই ব্যক্তিকে ‘জাসো’ নামে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার বয়স ২৬ বছর বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, কুকুরের মতো দেখতে হওয়ার জন্য তিনি একাধিক অস্ত্রোপচার করিয়েছেন এবং এ কাজে প্রায় ২২০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। পরে তিনি কুকুরের মতো চলাফেরা ও জীবনযাপন করছেন বলেও প্রচার করা হয়।
তবে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা, সরকারি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্রে এমন অস্ত্রোপচারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং প্রচারিত ভিডিওর সঙ্গে জাপানে ঘটে যাওয়া একটি পুরোনো ঘটনার মিল রয়েছে।
প্রকৃত ঘটনা হলো, ওই ব্যক্তি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কুকুরে পরিণত হননি। তিনি বিশেষভাবে তৈরি একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাক পরেছিলেন। পোশাকটি জাপানের একটি বিশেষ প্রভাব ও বিনোদন সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। বর্ডার কোলি জাতের কুকুরের আদলে তৈরি পোশাকটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে ভিডিওতে দেখে অনেকের কাছে সেটিকে সত্যিকারের কুকুর বলে মনে হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, পোশাকটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ জাপানি ইয়েন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২২০ কোটি টাকা নয়, বরং কয়েক দশক লাখ টাকারও কম-বেশি। পোশাকটি তৈরিতে প্রায় ৪০ দিন সময় লেগেছিল বলেও জানা যায়।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘২২০ কোটি টাকা খরচ করে মানুষ থেকে কুকুর’ হওয়ার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখানে মূল ঘটনা হলো বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি একটি বাস্তবসম্মত কুকুরের পোশাক, কোনো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষের জৈবিক পরিবর্তন নয়।
এ ধরনের চমকপ্রদ দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। বিপুল অর্থ ব্যয় ও অস্ত্রোপচারের গল্প যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। কিন্তু যাচাই করা তথ্য বলছে, ভাইরাল ভিডিওটির পেছনে রয়েছে অভিনব পোশাক তৈরির ঘটনা, মানুষকে কুকুরে রূপান্তরের কোনো বাস্তব ঘটনা নয়।



