রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড করার ঘোষণা ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড করার ঘোষণা ট্রাম্পের

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পর পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধও অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, এই অবরোধ সহজে তুলে নেওয়া হবে না; বরং এটি হবে একটি শক্ত ও অটুট ব্যবস্থা।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংঘাতের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পরবর্তী সময়ে ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেছেন, হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে না। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানেরই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি কখন বন্ধ বা খোলা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং অবাস্তব প্রত্যাশা পরিত্যাগ করার আহ্বানও জানান তিনি।

দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!