প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তিন দেশের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা জোরদারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আরও কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়াতেও এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
চলতি আগস্টের শুরুতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ পরিস্থিতিতে চুক্তিভুক্ত দেশগুলো পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়ে যৌথভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর অঙ্গীকার করেছে।
এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের সরাসরি প্রতিরক্ষা সমন্বয় আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তুরস্ক উত্তর আটলান্টিক জোটের সদস্য হওয়ায় দেশটির এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন সংযোগ তৈরি হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এরই মধ্যে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে মিসরসহ অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন এই জোট কতটা কার্যকরভাবে কাজ করবে এবং আরও কোন দেশ এতে যুক্ত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



