রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এক ঘটনার পর মা’দক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

এক ঘটনার পর মা’দক পরীক্ষায় একের  পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

সংগৃহীত

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলে পাইলটদের মাদক গ্রহণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমান সংস্থার পাইলটদের ওপর চালানো বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের বিমান পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় পাওয়া নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে ওই দুই পাইলট মাদক গ্রহণ করেছেন—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি বিমান সংস্থাটি তাদের পাইলটদের জন্য বিশেষ মাদক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপক পরীক্ষার উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের মাঝ আকাশে আকস্মিকভাবে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনা। গত ৪ আগস্টের ওই ঘটনায় যাত্রী ও উড়োজাহাজের কর্মীদের মধ্যে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পাইলটদেরও মাদক পরীক্ষা করা হয়। একজন পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল পাওয়ার পর তার নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় গাঁজার উপাদান শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে শরীরে মাদকের উপাদান পাওয়া এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার সময় মাদকের প্রভাবে থাকা—দুটি বিষয় এক নয়। ফলে তদন্তকারীরা শুধু মাদক পরীক্ষার ফল নয়, পাইলটদের আচরণ, উড়োজাহাজের তথ্য এবং কারিগরি ত্রুটির বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

প্রাথমিক কারিগরি বিশ্লেষণে উড়োজাহাজটির তিনটি পৃথক জলচাপ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ কমে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ফলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করেনি। পরে চাপ স্বাভাবিক হলে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও কার্যকর হয়।

এ কারণে পুরো ঘটনাকে শুধু পাইলটদের মাদক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত না করে কারিগরি ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আকস্মিকভাবে উড়োজাহাজ নিচে নেমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!