প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া, বৈরী আবহাওয়া এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় নানা ধরনের বাধার কারণে বিশ্ববাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ মূল্যসূচকে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সংস্থাটির হিসাবে, গত জুলাইয়ে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়ে ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগের মাস জুনের তুলনায় এ সূচক দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানেও খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম প্রায় ১ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাইয়ে এই সূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমান মূল্য এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম।
জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে শস্যের বাজারে। শস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে গমের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় গমের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহও উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ভুট্টার দামও বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শুষ্ক আবহাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
অন্যদিকে জুলাইয়ে ভোজ্যতেলের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। পাম ও সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ায় জৈবজ্বালানি উৎপাদনে পাম তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাম তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় সয়াবিন তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
চিনির দামও জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ও খরার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং ব্রাজিলে জৈবজ্বালানি উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা চিনির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তবে সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়েনি। জুলাইয়ে মাংসের দাম আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামও দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলমান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



