প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার শেষ পর্যায়ে সমুদ্র লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের আশপাশের এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব সাগরের দিকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে উৎক্ষেপণের ঘটনাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঠিক ধরন ও সক্ষমতা এখনো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে পিয়ংইয়ং। চলতি মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সেটিকে যথেষ্ট পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অবস্থানে মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মহড়াটি আগের নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক দিন আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পিয়ংইয়ংয়ের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট গতিবিধি শনাক্ত করে নজরদারি চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জাপানের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ-সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই তৎপরতা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আবারও আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টিও সামনে আনতে চাইছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



